US aircraft carrier moving toward the Middle East amid escalating tensions with Iran

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার প্রকাশ্য সামরিক হুমকিতে রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর খবর সামনে আসতেই তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেবে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত…

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র: যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী এগোতেই ইরানের কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবার প্রকাশ্য সামরিক হুমকিতে রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর খবর সামনে আসতেই তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—নতুন করে কোনো হামলা হলে ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বাস্তব সতর্কবার্তা। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ হবে, যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো বিশ্বই এর পরিণতি অনুভব করবে।


এই উত্তেজনার সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে “পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে।” এই বক্তব্য তেহরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব একযোগে কড়া ভাষায় জবাব দেয়।
ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে সামান্যতম হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে ইরান শুধু প্রতিশোধ নেবে না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর জন্য কোনো নিরাপদ ঘাঁটি থাকবে না। এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। তারা কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে।


সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতোমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে মালাক্কা প্রণালী পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর রণতরীর নির্দিষ্ট গন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবুও এই মোতায়েনকে ইরানের প্রতি স্পষ্ট সামরিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এর আগে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরান সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, যা যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাখ্যা করা হয়।
এদিকে অভ্যন্তরীণ সংকটও ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ পর্যন্ত চার হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৬ হাজারেরও বেশি। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে এবং নিহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার বলে স্বীকার করেছে।


এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বাইরের সামরিক চাপ—দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *