নতুন বছরের শুরুতেই সুইডেনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি নাগরিকত্বের সুযোগ বাড়াতে স্টকহোম কর্তৃপক্ষ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিবাসীদের স্থানীয় শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা…
সুইডেনে অভিবাসীদের জন্য বড় সুখবর, চাকরি ও নাগরিকত্বে নতুন সুযোগ
নতুন বছরের শুরুতেই সুইডেনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি নাগরিকত্বের সুযোগ বাড়াতে স্টকহোম কর্তৃপক্ষ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিবাসীদের স্থানীয় শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে নতুন আসা অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগ আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্টকহোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে অভিবাসীরা কেবল আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে সুইডেনের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। ভাষা শিক্ষা, পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের সুইডিশ সমাজের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে সুইডেনে নতুন আসা হাজারো মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজের সুযোগ ও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।
এদিকে, যারা কোনো কারণে সুইডিশ সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না বা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে সুখবর। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে বর্ধিত ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন অনুদান’ কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির আওতায় কোনো অভিবাসী যদি নিজ ইচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেবে সুইডিশ সরকার। অভিবাসন সংস্থার মতে, এই অনুদান নিজ দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সুইডিশ সরকার স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগ কোনোভাবেই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের অংশ নয়। বরং যারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের সম্মানজনক ও মানবিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল জানিয়েছেন, যারা সুইডেনে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করছেন এবং সমাজে অবদান রাখছেন, তাদের অস্থায়ী সুরক্ষার পরিবর্তে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে বৈধ অভিবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অধিকার আরও সুসংহত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ সুইডেনকে আরও মানবিক ও অভিবাসীবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে।

