Neymar, recovering from serious injuries, underwent surgery in Dec 2025 and is preparing for the 2026 World Cup amid uncertainty.

আধুনিক ফুটবলে নেইমারের মতো স্বাভাবিক প্রতিভার খেলোয়াড় খুবই বিরল। অসাধারণ ড্রিবলিং, দ্রুতগতি এবং সৃজনশীলতায় তিনি একসময় বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ ‘নেতা’ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।কিন্তু শৃঙ্খলাভঙ্গ, বারবার ইনজুরি এবং ধারাবাহিকতার অভাবে তাকে পরিচিতি দিয়েছে এক ভিন্ন রূপে—‘রাজপুত্র, যিনি কখনো রাজা হতে চাননি’। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার ইনজুরি বেড়ে যেতে থাকে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও চাপ…

ইনজুরির যন্ত্রণায় অবসরের কথা ভাবলেন নেইমার

আধুনিক ফুটবলে নেইমারের মতো স্বাভাবিক প্রতিভার খেলোয়াড় খুবই বিরল। অসাধারণ ড্রিবলিং, দ্রুতগতি এবং সৃজনশীলতায় তিনি একসময় বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ ‘নেতা’ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
কিন্তু শৃঙ্খলাভঙ্গ, বারবার ইনজুরি এবং ধারাবাহিকতার অভাবে তাকে পরিচিতি দিয়েছে এক ভিন্ন রূপে—‘রাজপুত্র, যিনি কখনো রাজা হতে চাননি’।


সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার ইনজুরি বেড়ে যেতে থাকে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তিও চাপ সৃষ্টি করে।
সান্তোসে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর ২০১৩ সালে বার্সেলোনা তাকে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ট্রান্সফার ফিতে দলে নেয়। স্পেনে চার মৌসুমে নেইমার জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক শিরোপা।
সেই সঙ্গে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ‘ভয়ংকর’ আক্রমণভাগ।


এরপর রেকর্ড ট্রান্সফারে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) এবং তারপর সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন।
সবশেষে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন ঘটে সান্তোসে—যেখান থেকেই তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল।
দক্ষিণ আমেরিকার একটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি নেইমারের বাবা জানিয়েছেন, একাধিকবার অবসরের কথা ভেবেছিলেন তার ছেলে।
একের পর এক ইনজুরি যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন এই ভাবনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সান্তোসে ফেরার পর নেইমার এমনকি নিজের অস্ত্রোপচারও পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে দল ব্রাসিলিরাওতে অবনমন এড়াতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে তার অবদানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেইমারের বাবা বলেন, কয়েক মাস আগে নেইমার তাকে বলেছিলেন,
‘আমি আর এটা সহ্য করতে পারছি না। আমার অস্ত্রোপচার দরকার, কিন্তু জানি না এটা আদৌ মূল্যবান কি না। আমি খুব ক্লান্ত।’


নেইমারের ইনজুরি দীর্ঘ ও জটিল। সবথেকে ভয়াবহ ছিল অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, যা তাকে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৩০০ দিনের বেশি সময় মাঠের বাইরে রাখে।
প্রত্যেকটি প্রত্যাবর্তনই ছিল ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর সংগ্রামের ফলাফল।


অবশেষে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর নেইমারের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সান্তোস নিশ্চিত করেছে, এক জন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি করা হয়েছে এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।
২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেইমার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন।


তবে ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলে কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নেইমারের পুরোপুরি উপস্থিতি নিশ্চিত হবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে যাচ্ছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *