বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্কপ্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য রোমাঞ্চকর হলেও স্বস্তির নয়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের চাপ, বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে নজরদারি এবং রোবটের বাস্তব দুনিয়ায় প্রবেশ—সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সাময়িকী ওয়্যার্ড-এর এক বিশ্লেষণে আগামী বছরের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ছয়টি ‘ভয়ংকর’ পূর্বাভাস তুলে…
২০২৬-এর ভয়ংকর পূর্বাভাস: এআইয়ের উত্থান, ছাঁটাই ও নজরদারির শঙ্কা
বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য রোমাঞ্চকর হলেও স্বস্তির নয়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের চাপ, বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে নজরদারি এবং রোবটের বাস্তব দুনিয়ায় প্রবেশ—সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সাময়িকী ওয়্যার্ড-এর এক বিশ্লেষণে আগামী বছরের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ছয়টি ‘ভয়ংকর’ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।
এআই খাতে বড় ছাঁটাইয়ের শঙ্কা
চলতি মাসে ওপেনএআই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে ‘কোড রেড’ ঘোষণা করেছে। অনেকের মনে পড়ে গেছে তিন বছর আগের ঘটনা, যখন গুগল প্রথম বড় ছাঁটাই করেছিল। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি এটিকে ভবিষ্যতের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল।
এবার প্রশ্ন উঠছে—২০২৬ সালের শুরুতেই কি ওপেনএআইও একই পথে হাঁটবে? এই আশঙ্কা থেকেই বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডেটা সেন্টার নিয়ে গুজবের বিস্তার
বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় স্তরে বিরোধিতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করছেন। ওয়্যার্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়াতে পারদর্শী।
র্যান্ড করপোরেশনের গবেষক অস্টিন ওয়াং বলেন, আপাতত আন্দোলনের পেছনে প্রকৃত মার্কিন নাগরিকরাই রয়েছেন, তবে যদি আন্দোলন জোরালো হয়, বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। এআই দিয়ে ছবি ও ভিডিও তৈরি সহজ হওয়ায় গুজব দ্রুত ছড়াতে পারে।
প্রযুক্তি মেলায় রোবটের দাপট
২০২৬ সালে সিইএসসহ বড় প্রযুক্তি সম্মেলনগুলোতে এআইচালিত রোবটই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। গুগলসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে রোবটকে ঘরের কাজ শেখাচ্ছে।
সম্প্রতি গুগল একটি ভিডিওতে দেখিয়েছে, রোবট মুখে বলা নির্দেশ শুনে আবর্জনা আলাদা করছে। ভবিষ্যতে এমন রোবট দেখা যেতে পারে যারা ভিড় ঠাসা ফ্রিজ থেকে নির্দিষ্ট পানীয় বের করবে বা আগে না দেখা চুলায় খাবার ঢুকাবে। জেনারেল মোটর্সের সাবেক এআই কর্মকর্তা বারাক তুরোভস্কি বলছেন, “বড় ভাষা মডেলের পরের সীমান্ত হলো বাস্তব দুনিয়া।”
কর্মীদের নজরদারি ও এআই প্রশিক্ষণ
অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই কর্মীদের কম্পিউটারে নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। ২০২৬ সালে নজরদারি আরও গভীর হতে পারে। কর্মীদের ক্লিক, স্ক্রল ও টাইপিং রেকর্ড করে এআই এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে।
কাস্টমার সাপোর্টের কাজেও এই ধরনের এআই এজেন্ট ব্যবহার শুরু হয়েছে। কর্মী অধিকারকর্মী উইলনেইডা নেগ্রন বলেন, এতে চাকরি হারানোর ভয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকিও বাড়বে।
সবসময় শোনা ডিভাইস, সবসময় ঝুঁকি
সবসময় মাইক খোলা রাখে এমন গ্যাজেট জনপ্রিয় না হলেও ভিডিও কল শুনে নোট বানানো এআই টুল দ্রুত ছড়িয়েছে। ‘গ্রানোলা’ নামের একটি টুল স্থায়ীভাবে অডিও সংরক্ষণ না করেই মিটিং সারাংশ তৈরি করতে পারে।
সমস্যা হলো, অংশগ্রহণকারীরা না জানিয়ে এই ধরনের টুল কাজ করতে পারে। এআই আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় পক্ষের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আইনি প্রশ্ন আরও জোরদার হবে। ওয়্যার্ড-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বড় কোনো মামলা বা ডেটা ফাঁসের ঘটনা ঘটতে পারে।
রোবট্যাক্সি বাড়বে, দুর্ঘটনায় দায়ী থাকবে মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে রোবট্যাক্সি সেবা দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। ওয়েইমো সপ্তাহে ১০ লাখ রাইড দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে এবং ২৫টি শহরে সেবা ছড়িয়ে দিচ্ছে। টেসলা ও অ্যামাজনের জুক্সও একই পথে এগোচ্ছে।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মানুষই দায়ী। রোবট্যাক্সির সংখ্যা সীমিত এবং ঝুঁকি এড়াতে প্রোগ্রাম করা। ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার চেয়ে মানুষের ভুলেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটবে।
সময়ই দেবে উত্তর
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়—২০২৬ সালে এআই কি জীবন সহজ করবে, নাকি নতুন ভয় বাড়াবে? সময়ই দেখাবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, আগামী বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বড় বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বছর হতে যাচ্ছে।

