Donald Trump announces new tariffs on European countries over Greenland issue during a statement on Truth Social

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়,…

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প, ইউরোপের ৮ দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্কের ঘোষণা

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করা হবে।

ঘোষণানুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এসব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরে ১ জুন ২০২৬ থেকে সেই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয়’ বিষয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, “ডেনমার্কের এখন সময় এসেছে গ্রিনল্যান্ড ফিরিয়ে দেওয়ার।” তার ভাষায়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ে টানাপোড়েন বিশ্ব শান্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক।


ট্রাম্পের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়। তিনি বলেন, “এটি আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি সময়।” ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানকে তিনি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন।
এই ঘোষণায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে না এলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজ করতে পারবে না। ফলে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের ওপর এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে এই সিদ্ধান্তের জবাব দেয় এবং ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে কী ধরনের সমাধান আসে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *