বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক–এর ভারতে পরিষেবা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির স্থানীয় ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য দৃশ্যমান হওয়ায় ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের সম্ভাব্য মূল্য প্রকাশ পেয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই দ্রুত সংশোধনী দিয়ে জানানো হয়, ওই তথ্যগুলো প্রকৃত মূল্য নয়। সোমবার (৮ ডিসেম্বর)…
ভারতে স্টারলিংকের পরিষেবা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি
বাংলার জনকণ্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক–এর ভারতে পরিষেবা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির স্থানীয় ওয়েবসাইটে কিছু তথ্য দৃশ্যমান হওয়ায় ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের সম্ভাব্য মূল্য প্রকাশ পেয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই দ্রুত সংশোধনী দিয়ে জানানো হয়, ওই তথ্যগুলো প্রকৃত মূল্য নয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিনের শুরুতে স্টারলিংকের ভারতীয় ওয়েবসাইটে মাসিক পরিষেবা মূল্য ৮ হাজার ৬০০ রুপি এবং হার্ডওয়্যার কিটের মূল্য ৩৪ হাজার রুপি দেখানো হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র ডিরেক্টর (স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনস) লরেন ড্রেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ এক পোস্টে স্পষ্ট করে জানান, স্টারলিংকের ভারতীয় ওয়েবসাইট এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। পাশাপাশি, ভারতে স্টারলিংকের কোনো পরিষেবা মূল্য এখনো ঘোষণা করা হয়নি এবং বর্তমানে দেশটি থেকে কোনো অর্ডার গ্রহণ করা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, একটি কনফিগারেশন ত্রুটির কারণে পরীক্ষামূলক ডামি ডেটা অল্প সময়ের জন্য ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান হয়েছিল। তবে প্রদর্শিত সংখ্যাগুলো ভারতে স্টারলিংক পরিষেবার প্রকৃত খরচ প্রতিফলিত করে না এবং ত্রুটিটি দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশে ইতোমধ্যে স্টারলিংক দুটি প্যাকেজে পরিষেবা চালু করেছে। এর মধ্যে স্টারলিংক রেসিডেন্স প্যাকেজের মাসিক খরচ ৬ হাজার টাকা এবং রেসিডেন্স লাইট প্যাকেজের মাসিক খরচ ৪ হাজার ২০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের এককালীন ৪৭ হাজার টাকা যন্ত্রপাতির খরচ বহন করতে হচ্ছে। এসব প্যাকেজে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতির আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহার করতে পারছেন।
ভারতে পরিষেবা চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে লরেন ড্রেয়ার জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারতের মানুষের কাছে স্টারলিংকের উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে তারা আগ্রহী। বর্তমানে সংস্থাটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এরই মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে স্টারলিংক বেঙ্গালুরুতে পেমেন্টস ম্যানেজার, অ্যাকাউন্টিং ম্যানেজার, সিনিয়র ট্রেজারি অ্যানালিস্ট ও ট্যাক্স ম্যানেজারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্টারলিংক বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের জন্য এর প্লাগ অ্যান্ড প্লে ইনস্টলেশন, ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি আপটাইম, বৈরী আবহাওয়ায় কার্যকর সক্ষমতা এবং ডেটা ক্যাপ না থাকার সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগে মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার স্টারলিংক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল রাজ্যের প্রত্যন্ত ও অনুন্নত এলাকায় স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা সম্প্রসারণ।

