মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। আলাস্কাভিত্তিক মার্কিন সেনাবাহিনীর ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দুটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে ‘প্রিপেয়ার-টু-ডিপ্লয়’ অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত…
বিক্ষোভে উত্তাল মিনেসোটা, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিতে পেন্টাগন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। আলাস্কাভিত্তিক মার্কিন সেনাবাহিনীর ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দুটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে ‘প্রিপেয়ার-টু-ডিপ্লয়’ অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা দপ্তর। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে। ওইদিন আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)–এর এক অভিযানের সময় রেনি নিকোল গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি তিন সন্তানের জননী এবং একজন মার্কিন নাগরিক ও কবি ছিলেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তিনি কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ আইসিই অভিযানের মুখে পড়েন তিনি। আইসিই এজেন্ট জোনাথন রস তাকে গুলি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই মিনিয়াপোলিসসহ পুরো মিনেসোটায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নিলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘পেশাদার আন্দোলনকারী’ এবং ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাজ্যের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদেরা যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি ১৮০৭ সালের বিতর্কিত ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে সেনা মোতায়েন করবেন। বিশেষ করে সোমালি অভিবাসী সম্প্রদায়কে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করে তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে সেনা মোতায়েনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, সামরিক বাহিনী নামানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, “নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্ট বা সেনা প্রয়োজন নেই। বরং এটি উত্তেজনা বাড়াবে।”
অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশ পালনে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। আলাস্কা থেকে নির্বাচিত প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেনাসদস্য চরম শীত ও প্রতিকূল পরিবেশে অভিযানে দক্ষ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে মিনিয়াপোলিসে প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। তবুও নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বিরোধী শিবির একে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ।

