সিরিয়ার অভ্যন্তর থেকে প্রায় ২৫০টি ছাগল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একদল সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলান মালভূমিতে মোতায়েন গোলান ব্রিগেডের একটি…
সিরিয়া থেকে ২৫০ ছাগল চুরি: শাস্তির মুখে ইসরাইলি সেনারা
সিরিয়ার অভ্যন্তর থেকে প্রায় ২৫০টি ছাগল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একদল সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোলান মালভূমিতে মোতায়েন গোলান ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়ন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার ভেতরে পরিচালিত একটি অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটায়। অভিযানের এক পর্যায়ে তারা সিরীয় কৃষকদের মালিকানাধীন একটি ছাগলের পাল শনাক্ত করে এবং তা ইসরাইলি ভূখণ্ডে নিয়ে আসে। পরে ট্রাকে করে এসব ছাগল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অবৈধ বসতির খামারে পাচার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে তখন, যখন গোলান মালভূমির স্থানীয় কিছু কৃষক রাস্তায় ডজন ডজন ছাগল ঘুরে বেড়াতে দেখে সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, চুরি করা ২৫০টি ছাগলের মধ্যে প্রায় ২০০টি বর্তমানে ইসরাইলের অভ্যন্তরে রয়েছে। এসব ছাগলের কোনো ধরনের শনাক্তকরণ চিহ্ন নেই এবং স্বাস্থ্যগতভাবে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধমূলক টিকাও দেওয়া হয়নি। বাকি ছাগলগুলো সিরীয় সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, এই অভিযান কোনো ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল। বিষয়টিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট স্কোয়াড কমান্ডারকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানি কমান্ডারকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়েছে এবং অভিযানে জড়িত পুরো স্কোয়াডটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা এ ধরনের লজিস্টিক অপরাধ শুধু আইনি সমস্যাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নও সামনে আনে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের সাধারণ কৃষকদের জীবিকা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার বাফার জোনের ভেতরে অন্তত নয়টি সামরিক পোস্টে অবস্থান করছে। ইসরাইলের দাবি, শত্রু পক্ষের হাতে অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতেই তারা সিরিয়ার অভ্যন্তরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে সাম্প্রতিক এই ছাগল চুরির ঘটনা আইডিএফ-এর নজরদারি ব্যবস্থা, নৈতিক মানদণ্ড এবং কমান্ড কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সামরিক অভিযানের আড়ালে ব্যক্তিগত বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের এমন অভিযোগ ভবিষ্যতে ইসরাইলি বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল

