আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের…
ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৫০০ ছাড়াল, মানবাধিকার সং গভীর উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে আন্দোলনটি ছিল মূলত অর্থনৈতিক দাবিকেন্দ্রিক, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাব দীর্ঘদিন ধরে যে ক্ষোভ জমে ছিল, এই বিক্ষোভে তারই বিস্ফোরণ ঘটে।
HRANA জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা তাদের নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তারা গত দুই সপ্তাহে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো বিদেশি শক্তি হামলা চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালের পর ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন, যা দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরান সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত—প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া। এর ফলে দেশটির ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরান সরকার বরাবরের মতো অভিযোগ করেছে, এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইন্ধন জোগাচ্ছে। যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্রমেই দীর্ঘায়িত হওয়া এই বিক্ষোভ শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতেও।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

