মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা…
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত আল-হারির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি সমাবেশ কেন্দ্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং আরিফজান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই সামরিক অভিযানটি ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৫২তম ধাপের অংশ। ইরানের শিল্পাঞ্চলে কর্মীদের হত্যার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ এবং এর মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিতে চায়।
এদিকে হামলার বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি তিনি এখনও জীবিত থাকেন, তবে তাকে খুঁজে বের করে হত্যার চেষ্টা চালানো হবে।
এই ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব প্রায়ই আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই প্রকাশ্যে চলে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হামলার দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা যদি আরও বাড়তে থাকে, তবে তা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার দিতে পারে।
তবে এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও বিস্তারিতভাবে সামনে আসেনি।

