ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে পরাজিত করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালো বার্সেলোনা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জাভির শিষ্যরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। প্রথম লেগে সেন্ট জেমস পার্কে ১-১ ড্র হওয়ায় ফিরতি লেগের শুরুতে উত্তেজনা ছিল তীব্র। প্রথমার্ধেই ৫ গোলের খেলা দেখা গেল। বার্সেলোনা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও…
প্রতিপক্ষের জালে ৭ গোল বার্সেলোনা কোয়ার্টার ফাইনালে
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে পরাজিত করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালো বার্সেলোনা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জাভির শিষ্যরা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।
প্রথম লেগে সেন্ট জেমস পার্কে ১-১ ড্র হওয়ায় ফিরতি লেগের শুরুতে উত্তেজনা ছিল তীব্র। প্রথমার্ধেই ৫ গোলের খেলা দেখা গেল। বার্সেলোনা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও নিউক্যাসল লড়াই করেছে সমানভাবে। রাফিনিয়া এবং মার্ক বার্নাল গোল করলেও নিউক্যাসলের অ্যান্থনি এলাঙ্গা জোড়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। বিরতির ঠিক আগে তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা পুরোপুরি অন্য এক চেহারায় হাজির হলো। মাত্র ২১ মিনিটে তারা চারটি গোল আরও করে ম্যাচের সিদ্ধান্ত কার্যত নিশ্চিত করে। ৫১ মিনিটে ফারমিন লোপেজ গোল করেন, এরপর ৫৬ এবং ৬১ মিনিটে রবার্ট লেভানডফস্কি জোড়া গোল করেন। ৭২ মিনিটে রাফিনিয়া তার দ্বিতীয় গোল দিয়ে বার্সার সপ্তম গোল পূর্ণ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে লেভানডফস্কি লিওনেল মেসির রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন; এখন তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে মোট ৪১টি আলাদা দলের বিপক্ষে গোল করেছেন। এছাড়া লামিনে ইয়ামাল সবচেয়ে কম বয়সে ১০টি চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিউক্যাসলের জালে ৭ গোল করা বার্সেলোনা দ্বিতীয় দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে। এর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ২০১১-১২ মৌসুমে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ৭ গোল করেছিল বার্সা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে আতলেতিকো মাদ্রিদ বা টটেনহ্যাম হটস্পারের। দলের আক্রমণাত্মক খেলা, সুচারু সমন্বয় এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা তাদের এই সিজনে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে।
ক্যাম্প ন্যুর দর্শকরা এক অসাধারণ খেলা দেখেছে, যেখানে লেভানডফস্কি, রাফিনিয়া এবং ইয়ামালের মতো খেলোয়াড়রা দলের জয় নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সংক্ষেপে, বার্সেলোনার এই ৭-২ জয়ের খেলা দেখালো দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা, একাধিক রেকর্ড ভাঙা এবং ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় তাদের স্থিতিশীল অবস্থান। নিউক্যাসল লড়াই করলেও বার্সার আক্রমণের চাপ সামলাতে পারল না। পরবর্তী রাউন্ডে বার্সেলোনার খেলা দর্শকদের জন্য আরও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

