মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে Donald Trump এবং NATO-এর সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন Iran-এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন ন্যাটোর অধিকাংশ মিত্র দেশ এতে অংশ…
ট্রাম্পের ক্ষোভ ন্যাটোর অনাগ্রহে হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একা?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে Donald Trump এবং NATO-এর সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন Iran-এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন ন্যাটোর অধিকাংশ মিত্র দেশ এতে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তার ভাষায়, মিত্রদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধের ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়।
হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট, সেটিকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল একটি যৌথ নৌ-অভিযান। কিন্তু ইউরোপীয় মিত্রদের বেশিরভাগই এ ধরনের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একাই এই অঞ্চলে তার কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন, যদিও মিত্ররা সামরিকভাবে অংশ নিচ্ছে না, তবুও তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে এই ‘সমর্থন’ বাস্তব সহযোগিতায় রূপ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ন্যাটোর ভেতরে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববণ্টন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর সতর্ক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক নীতি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বকে “বিধ্বস্ত” করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও এটি তার প্রশাসনের সামরিক সাফল্যের বার্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সাফল্যের প্রেক্ষিতে ন্যাটোর সহায়তা এখন আর অপরিহার্য নয়। এমনকি অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তার এই মন্তব্য ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন সমন্বিত অবস্থান না থাকাটা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ইস্যু শুধু একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্ন নয়—এটি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামরিক জোট এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।

