Benjamin Netanyahu video frame showing visual inconsistency raising AI deepfake concerns

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তার অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এই ভিডিওটি ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটি আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি?প্রায় দেড় মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওতে তাকে জেরুজালেমে বাইরে হাঁটতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে…

নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, ‘এআই তৈরি’ সন্দেহে উত্তাল অনলাইন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তার অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এই ভিডিওটি ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটি আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি?
প্রায় দেড় মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ভিডিওতে তাকে জেরুজালেমে বাইরে হাঁটতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। প্রথম দেখায় ভিডিওটি স্বাভাবিক মনে হলেও, কিছু সূক্ষ্ম অসঙ্গতি দর্শকদের চোখে পড়ে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


বিশেষ করে ভিডিওর ২৭ থেকে ২৯ সেকেন্ডের একটি অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। ওই অংশে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর বাঁ হাতের অনামিকায় একটি আংটি রয়েছে। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই সেই আংটি হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই পরিবর্তনটি এত দ্রুত ঘটে যে অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ভিডিও এডিটিংয়ের ফল হিসেবে না দেখে বরং এআই প্রযুক্তির ত্রুটি বলে মনে করছেন।
সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ব্যবহারকারী এই বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন—“হাত নাড়ানোর সময় আংটিটি কোথায় গেল?” এই প্রশ্ন থেকেই মূলত নতুন করে সন্দেহের জন্ম নেয়। কেউ কেউ সরাসরি দাবি করছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে AI-জেনারেটেড হতে পারে।


এ ধরনের অসঙ্গতি সাধারণত ডিপফেক বা AI-নির্ভর ভিডিওতে দেখা যায়। এর আগেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কোথাও তার হাতে অতিরিক্ত আঙুল দেখা গেছে, আবার কোথাও দেখা গেছে কফির কাপ থেকে কিছুই কমছে না—যা বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।


এই ধারাবাহিক অসঙ্গতিগুলোর কারণে নতুন ভিডিওটি নিয়েও সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। এমনকি এক ব্যবহারকারী AI চ্যাটবট ‘Grok’-এর কাছেও জানতে চান ভিডিওটি AI দিয়ে তৈরি কিনা। সেখানে ইতিবাচক উত্তর পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এই ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অনলাইনে নেতানিয়াহুর মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এই গুজব আরও বেশি আলোচনায় আসে।


বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে AI প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন বাস্তব ও কৃত্রিম কনটেন্টের পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন করে তুলছে। ফলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘিরে এমন বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ভিডিওটি সত্যি নাকি কৃত্রিম—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না হলেও, এটি যে নতুন করে ডিপফেক ও AI প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, তা স্পষ্ট। অনলাইন দুনিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *