মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইরান ও ইসরাইল এর মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার খবর আসছে। সর্বশেষ ঘটনায় দেখা গেছে, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হলেও তার ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে আবারও ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। এতে নতুন করে একজন ইসরাইলি নাগরিক আহত হয়েছেন। ইসরাইলের শক্তিশালী…
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেও নিরাপদ নয় ইসরাইল, ধ্বংসাবশেষে আহত আরও ১
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইরান ও ইসরাইল এর মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনার খবর আসছে। সর্বশেষ ঘটনায় দেখা গেছে, ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হলেও তার ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে আবারও ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। এতে নতুন করে একজন ইসরাইলি নাগরিক আহত হয়েছেন।
ইসরাইলের শক্তিশালী চার স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা — যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্ট প্রযুক্তি — অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে। তবুও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কারণ আকাশে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোগুলো উচ্চগতিতে মাটিতে পড়ে ছোট রকেটের মতোই ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। ফলে প্রতিরক্ষা সফল হলেও ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) প্রতিহত করা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মধ্য ইসরাইলের কয়েকটি এলাকায় পড়ে। রাজধানী তেল আবিব এর আশপাশের শোহাম, রিশন লেজিয়ন, লোদ এবং নেস জিওনা শহরে এসব ধাতব খণ্ডাংশ আঘাত হানে। কোথাও কোথাও ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন সংঘাতের ১৭তম দিন চলছে এবং পুরো অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা চরমে। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য উভয়ই রয়েছেন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া মৃত্যুর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর থেকেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। শুধু ইসরাইল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল পুরোপুরি নিরাপদ নয়। আকাশে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোও যে প্রাণঘাতী হতে পারে — সাম্প্রতিক ঘটনাটি তারই বাস্তব উদাহরণ। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ঝুঁকি তত বাড়ছে সাধারণ মানুষের জন্য। ⚠️

