Donald Trump speaking about Iran deal and nuclear conditions during an interview.

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এখনই কোনো নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি প্রস্তুত নন। শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় সামনে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের…

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে এখনই আগ্রহী নন ট্রাম্প, জানালেন নতুন শর্ত

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এখনই কোনো নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি প্রস্তুত নন।


শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় সামনে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি তা করতে রাজি নন। তার মতে, আলোচনার টেবিলে যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্তোষজনক নয়।


তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। তাই যেকোনো সমঝোতার আগে এই কর্মসূচি বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি দেশ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে তিনি সেই দেশগুলোর নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
এদিকে ইরানের জ্বালানি খাত নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খারগ দ্বীপ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আবারও হামলা চালাতে পারে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে খুব একটা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। যদিও সরবরাহ ব্যবস্থার কিছু অংশে সাময়িক বিঘ্ন দেখা যাচ্ছে, তবে সেটি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই মূলত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।


বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *