আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শহরের অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহর-ই-নাও অঞ্চলে সংঘটিত একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এই ঘটনায় কাবুলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার…
কাবুলের সুরক্ষিত এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ৭, আহত অন্তত ১৩
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শহরের অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহর-ই-নাও অঞ্চলে সংঘটিত একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এই ঘটনায় কাবুলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণটি ঘটে একটি ব্যস্ত এলাকায়, যেখানে সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের চলাচল বেশি থাকে।
শাহর-ই-নাও এলাকা কাবুলের কূটনৈতিক অঞ্চলগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটিকে তুলনামূলক নিরাপদ জোন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের ভবনের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃতি এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী শাহর-ই-নাও এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজন আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পর তালেবান ক্ষমতায় আসলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (আইএসআইএল) আবার সক্রিয় হয়ে ওঠায় তালেবান প্রশাসনের জন্য নিরাপত্তা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে আইএস-এর পক্ষ থেকে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাবুলের প্রাণকেন্দ্র ও সুরক্ষিত এলাকায় এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ তালেবান সরকারের নিরাপত্তা দাবিকে দুর্বল করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এটি আত্মঘাতী হামলা নাকি পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ—সে বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এমন একটি হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন আফগানিস্তান ইস্যুতে নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য খুঁজতে থাকায় এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

