Donald Trump speaking as Iran protests intensify against the government

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব ধরনের বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ট্রাম্প…

ইরানি বিক্ষোভে নতুন মাত্রা: সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের ডাক ট্রাম্পের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সব ধরনের বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে ইরানের বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণের জন্য “সহায়তা আসছে” এবং তাদের রাজপথে আরও শক্ত অবস্থান নিতে উৎসাহ দেন। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেওয়ার সরাসরি আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা এই আন্দোলন দমন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের নাম সংগ্রহ করে রাখার আহ্বান জানানো হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এর জন্য “চড়া মূল্য” দিতে হবে। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না।
‘মাগা’ (MAGA) এবং ‘মিগা’ (MIGA) স্লোগান ব্যবহার করে তিনি ইরানি জনগণকে আশ্বাস দেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। তবে ‘সহায়তা’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন—সামরিক, কূটনৈতিক নাকি অর্থনৈতিক—তা স্পষ্ট করেননি। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।


এই বক্তব্যের পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জরুরি সতর্কতা জারি করে ইরানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্পও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে আকস্মিক ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে দেশটি লিবিয়া বা সিরিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তার মতে, বর্তমানে ইরানে এমন কোনো সংগঠিত বিরোধী শক্তি নেই, যারা দ্রুত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে সক্ষম।


অন্যদিকে ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক শ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিদেশি শক্তির মদদেই এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ও হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *