অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ—ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ করে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং…
দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় নিল অস্ট্রেলিয়া, শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি
অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ—ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ করে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার প্রতিরোধ করা। কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী সত্যিকারের পড়াশোনার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান, তাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছিল ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান থেকে। এই চার দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী আসায় ভিসা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রবেশের অভিযোগ থাকায় কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, নতুন এই ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বাধা নয়। বরং এতে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার মান ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও বাড়বে। সরকার চায় শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত হোক যে, তারা একটি বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সাবেক উপ-সচিব ড. আবুল রিজভী। তিনি বলেন, সাধারণত এ ধরনের ঝুঁকি ক্যাটাগরি বছরে একবার হালনাগাদ করা হয়। মাঝপথে হঠাৎ করে চারটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় যুক্ত করা নজিরবিহীন ঘটনা।
বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই ঘোষণার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষা পরামর্শকরা বলছেন, এখন আবেদনকারীদের একাডেমিক যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা ও ভিসার উদ্দেশ্য আরও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থী প্রবাহে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া তার শিক্ষা ব্যবস্থার মান রক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি আস্থা বজায় রাখতেই এই নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমনটা ভাবার কারণ নেই।

