ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় উটের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে নিহত একই পরিবারের চার বাংলাদেশি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একই পরিবারের চারজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। হঠাৎ সড়কে উঠে আসা একটি উটের সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি দেশ ও প্রবাস—দুই জায়গাতেই শোকের আবহ তৈরি করেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওমানের সালালাহ শহরের তাম্বেত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী…

উটের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে ওমানে একই পরিবারের চার বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একই পরিবারের চারজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। হঠাৎ সড়কে উঠে আসা একটি উটের সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি দেশ ও প্রবাস—দুই জায়গাতেই শোকের আবহ তৈরি করেছে।


শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওমানের সালালাহ শহরের তাম্বেত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালালাহ শহর থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ একটি উট সড়কে চলে আসে। চালক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে পড়ে।


দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। এতে তারা সবাই গুরুতর আহত হন। দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বেঁচে যাওয়া একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।


নিহতরা হলেন—চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী মো. শফিউল আলমের স্ত্রী বিলকিস বেগম, তার ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান, জামাতা মুহাম্মদ দিদারুল আলম এবং পুত্রবধূ। নিহত পুত্রবধূর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. শফিউল আলম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ওমানে বসবাস করছিলেন। তিনি সেখানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা সালালাহ এলাকায় একটি মাজার জিয়ারত শেষে গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন। আনন্দঘন সেই যাত্রা যে এমন করুণ পরিণতি বয়ে আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।


শফিউল আলমের ব্যবসায়িক অংশীদার ও ফটিকছড়ির বাসিন্দা মুহাম্মদ পারভেজ জানান, দুর্ঘটনার খবর শোনার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের চারজনের এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।


এদিকে, দুর্ঘটনার খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর ফটিকছড়ির ছোট ছিলোনিয়া গ্রামে নেমে আসে গভীর শোক। সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহিদুল আজম বলেন, “একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। গ্রামজুড়ে চলছে কান্না আর মাতম।”


প্রবাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা পরিবারটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। সবাই নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *