শোকের গভীর আবহ কাটিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন ধীরে ধীরে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত সাত দিনের শোক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই দলীয় কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষায়, ব্যক্তিগত ও দলীয় শোককে শক্তিতে পরিণত করেই তারা নির্বাচনের পথে…
শোকের আবহ কাটিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি।
শোকের গভীর আবহ কাটিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন ধীরে ধীরে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত সাত দিনের শোক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই দলীয় কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষায়, ব্যক্তিগত ও দলীয় শোককে শক্তিতে পরিণত করেই তারা নির্বাচনের পথে এগোতে চান।
বিএনপি নেতারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া শুধু দলের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে এই শোকের মধ্যেও রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে লড়াই তিনি আজীবন করে গেছেন, সেই পথ ধরেই সামনে এগোনোর অঙ্গীকার করছেন তারা। শোক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দলীয় প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নিবিড় নজর রাখছে। যেসব আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে কিংবা মিত্রদের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর পুরোপুরি নির্বাচনী মাঠে নামার আগে এসব বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার দিকেই এখন বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রচার-প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে চলছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে গভীর ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, তা দলকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম জিয়ার অবদান মানুষ আজও স্মরণ করে। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, তিনি শুধু একটি দলের নেতা নন, বরং গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতীক।
আগামী নির্বাচনে সেই আবেগ ও প্রত্যাশাই বিএনপির পক্ষে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই শোককে তারা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চান না। বরং এই বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতি ও দেশের জন্য কাজ করতে চান। তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যত শোকই থাকুক, জাতির স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দৃঢ় ও শক্ত মনোবলের পরিচয় দিতে হবে। জনগণ বিশ্বাস করে, তার নেতৃত্বেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই বিএনপি শোক কাটিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

