কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি…
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত বহু
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় হঠাৎ দ্রুতগতির একটি ট্রেন এসে বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ শিশু ও ২ নারী রয়েছেন। তবে এখনো সব নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার কারণে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের বাইরে আটকে পড়ে। পরে উদ্ধার কাজ শেষে ধীরে ধীরে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাস চালকের অসাবধানতা বা রেলক্রসিংয়ে সঠিক সিগন্যাল না মানার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

