মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন…
যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কৌশল বদলাচ্ছে সৌদি-আমিরাত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম চালাতে অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়।
এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চলের তায়েফে অবস্থিত কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি মার্কিন বাহিনীর জন্য উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। কৌশলগতভাবে এই ঘাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইরানের ড্রোন হামলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত। পাশাপাশি জেদ্দা বন্দরও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাবে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও জোরদার হতে পারে। ইতোমধ্যে পূর্ব এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। এমনকি এই যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে চললেও তারা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না বলেও জানিয়েছে। এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে শুরুতে সৌদি আরব, আমিরাত ও কাতার কেউই ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা সমর্থন করেনি।
বরং তারা চেয়েছিল তাদের ভূখণ্ড যেন যুদ্ধের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার না হয়। কিন্তু সংঘাতের বিস্তৃতি এবং নিজেদের ওপর হামলার পর তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে আমিরাত শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারো ড্রোন প্রতিহত করেছে। কাতারও বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ওমানের মতো কিছু দেশ এখনো মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক। তারা মনে করছে, এই যুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এবং এতে জড়ালে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক জটিল ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে তারা ইরানের হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাত সরাসরি যুদ্ধ না করেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত সহায়তা দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তবে এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ ইরান ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম এবং দ্রুত পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

