Pakistani military halts attacks in Afghanistan for Eid amid Taliban and civilian concerns.

রূপসাটিভি/ডিজিটাল ডেস্ক কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার দুই দিনের মধ্যে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী পাঁচ দিন এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। বুধবার, ১৮ মার্চ পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান,…

ঈদে আফগানিস্তানে ৫ দিন হামলা বন্ধ রাখছে পাকিস্তান

রূপসাটিভি/ডিজিটাল ডেস্ক

কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার দুই দিনের মধ্যে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী পাঁচ দিন এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। বুধবার, ১৮ মার্চ পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।


পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত আফগানিস্তানে সব ধরনের হামলা বন্ধ থাকবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে কোনো ধরনের আক্রমণ হলে পুনরায় দ্বিগুণ শক্তিতে অভিযান চালানো হবে।


এই ঘোষণার পরপরই তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। গত সোমবার রাতে কাবুলের ‘ওমিদ’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে তালেবান দাবি করেছে। বুধবার নিহতদের স্মরণে কাবুলে এক বিশাল গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা কোনো নিরাময় কেন্দ্র নয় বরং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, ওই কেন্দ্রটি ড্রোন মজুত ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতো। অন্যদিকে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।


আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধের সময় বেসামরিক ও চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।


ঈদকালীন এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে যুদ্ধের ঝুঁকি এখনও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থায়ী শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই সংক্ষিপ্ত বিরতি উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছে যে, সামরিক চাপ কমানোর মাধ্যমে মানবিক ক্ষতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


পাঁচ দিনের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ে দুই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা আশা করছে, এই সময়ে কমপক্ষে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক করে বলছে, বিরতির শেষে যুদ্ধ আবার শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।


পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সামরিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য এই বিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত যে, সাময়িক শান্তি অর্জন সম্ভব, তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থায়ী সমাধান কূটনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *