বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরান-সংকটের জেরে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর এটিকে নিরাপদ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে তার এই আহ্বানে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় তিনি স্পষ্ট হতাশা…
হরমুজ প্রণালি সংকটে মিত্রদের সাড়া না পেয়ে হতাশ ট্রাম্প, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরান-সংকটের জেরে প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর এটিকে নিরাপদ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে তার এই আহ্বানে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় তিনি স্পষ্ট হতাশা প্রকাশ করেছেন
ট্রাম্প দাবি করেছেন, অনেক দেশ নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে অনেক দেশকে নিরাপত্তা দিয়েছে, বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করেছে, কিন্তু এখন প্রয়োজনের সময় সেই দেশগুলোর উৎসাহ খুব কম।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে এগিয়ে না আসে, তাহলে NATO-র ভবিষ্যৎ “খুব খারাপ” হতে পারে। তার মতে, জোটের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি China, France, Japan, South Korea এবং United Kingdom-সহ অন্যান্য দেশকে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানান। তার দাবি, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় এসব দেশও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাই তাদের এগিয়ে আসা উচিত।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে সতর্ক। European Union-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান Kaja Kallas বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ইউরোপের স্বার্থে হলেও এটি ন্যাটোর সরাসরি দায়িত্ব নয়। কারণ ওই অঞ্চলে ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড নেই।
Germany-এর এক সরকারি মুখপাত্রও একই সুরে বলেন, এই সংঘাত ন্যাটোর যুদ্ধ নয় এবং জোটের সম্পৃক্ততার বিষয়ও নয়। এতে বোঝা যায়, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সামরিক জড়িত হওয়া এড়িয়ে যেতে চাইছে।
তবে United Kingdom-এর প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, তার দেশ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে দ্রুত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হয়।
Australia যদিও সরাসরি ট্রাম্পের আহ্বান পায়নি, তবু দেশটির পরিবহনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
চীনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বেইজিংয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, সব পক্ষের উচিত সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা যেন বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে তা নিশ্চিত করা।
এদিকে Japan-এর প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, আপাতত হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখায় যে বিশ্বশক্তিগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক। কিন্তু প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

