Iran police announce three-day ultimatum for protesters to surrender amid nationwide unrest

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে হালকা শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।পুলিশ প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে অংশ…

বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিল ইরান, কঠোর অভিযানের ইঙ্গিত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে হালকা শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পুলিশ প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ ‘প্রতারণার শিকার’ হয়ে আন্দোলনে জড়িয়েছেন। তাদেরকে রাষ্ট্রের সরাসরি শত্রু হিসেবে না দেখে ভুল বোঝাবুঝির শিকার নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে প্রশাসন। এ কারণেই সরকার একটি সীমিত সময়ের জন্য আত্মসমর্পণের সুযোগ রেখে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
আহমদ-রেজা রাদান স্পষ্ট করে বলেন, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে বা আবেগের বশে দাঙ্গা ও সহিংসতায় যুক্ত হয়েছেন, তারা যদি আগামী তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন, তবে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা হবে। তবে এই সুযোগের মেয়াদ শেষ হলে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযানে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানের জন্য ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই মন্তব্য দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও বৈরী নীতিকে দায়ী করেছেন। তার মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটিতে নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে তেহরান।
তিন দিনের সময়সীমা ঘোষণার পর থেকেই তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময় শেষ হলে সরকার আরও কঠোর দমনমূলক অভিযানে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সীমিত সময়ের জন্য ক্ষমার ঘোষণা এবং অন্যদিকে কঠোর অভিযানের হুঁশিয়ারি—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ইরান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিদেশি চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
সূত্র: রয়া নিউজ

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *