পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)। ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পালন করবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শবে মেরাজ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত, যে রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। শবে মেরাজ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের…
পবিত্র শবে মেরাজ আজ: ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রাত
পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)। ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পালন করবেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শবে মেরাজ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত, যে রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হয়।
শবে মেরাজ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক অনন্য ও অলৌকিক ঘটনার স্মারক। এই পবিত্র রাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়, যা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে প্রিয় নবী (সা.) মানবজাতির কাছে সালাত প্রতিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দেন।
ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। এই ঘটনাকে কুরআনে ‘ইসরা’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি সব নবীদের জামাতে ইমামতি করেন, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ।
এরপর মহানবী (সা.) ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে আরোহন করে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন, যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.)। মেরাজের এই অলৌকিক যাত্রায় তিনি সাত আসমান অতিক্রম করেন এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানে তিনি বেহেশতের নদীসমূহ, ফেরেশতাদের ইবাদতখানা বায়তুল মা’মুরসহ আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করেন।
এই মহিমান্বিত রাত মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ। শবে মেরাজ উপলক্ষে দেশের মসজিদে-মসজিদে বিশেষ দোয়া ও নফল নামাজ আদায় করা হয়। অনেক মুসলমান নিজ নিজ ঘরে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযগার, তাসবিহ পাঠ এবং দোয়া-মোনাজাতে সময় কাটান।
আলেম-ওলামারা বলেন, শবে মেরাজ মুসলমানদের জীবনে নামাজের গুরুত্ব ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। এই রাত মানুষকে পাপ থেকে বিরত থাকার, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার এবং মানবিক ও নৈতিক জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই এই রাতকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

