ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলাকালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম…
ইরানে বিক্ষোভে প্রাণহানি বাড়ছে, এক শহরে নিহত ৮ সেনা
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ চলাকালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আল জাজিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল কারণ ছিল দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ক্রমাবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন টানা ১৩ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে।
এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরের অন্তত ৩০০টি স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাস্তার মিছিল, শ্রমিক ধর্মঘট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আন্দোলন। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া পেলেট বা প্লাস্টিক বুলেটে আহত হন। শুধু পশ্চিম ইরানের মালেকশাহি শহরেই অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
চলমান এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

